Thursday, 10 May 2018

মাধবপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতা আটক

মাধবপুর প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) একটি দল।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভান্ডারুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-উপজেলার ভান্ডারুয়া গ্রামের মো. ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন(২০) ও একই গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে হানিফ মিয়া (২২)।

র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, এএসপি নাহিদ হাসান ও এএসপি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আক্তার ও হানিফকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা, তিনটি মোবাইল ফোন ও তিনটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও আটককৃতদেরকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Wednesday, 9 May 2018

দুস্থ্য প্রতিবন্ধীদের মধ্যে কাউন্সিলর আফতাবের হুইল চেয়ার বিতরণ

নগরীর ১২ জন প্রতিবন্ধী দুস্থ্যদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন সিসিক কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান। তিনি গতকাল ৯ এপ্রিল বুধবার সিলেট নগরীর পশ্চিম পীর মহল্লাস্থ ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে হেল্পফুল হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য শাখার পক্ষ থেকে তাদের এ হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এড. আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট মুরব্বী নওশেরান চৌধুরী, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহানুর আলম, যুবলীগ নেতা জুবেল আহমদ, রুজিনা আক্তার শিপা, সেলিনা আক্তার লুনা, জালাল উদ্দীন মুকুল, সাকলাইন দেওয়ান রুজেল প্রমুখ।

Tuesday, 8 May 2018

২৫শে বৈশাখের ভাবনা: রবীন্দ্রনাথ ও আমার শৈশব ... জ্যোতি ভট্টাচার্য্য


হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, নিত্যনিঠুর দ্বন্দ্ব,
ঘোর কুটিল পন্থ তার, লোভ জটিল বন্ধ॥

আমি যখন রবিঠাকুরের গান শুনে একটু একটু করে বড় হচ্ছি মায়ের মধ্যে, তখন থেকেই কবির সাথে আমার সখ্যতা শুরু। আমার মা গান বড় ভালবাসতেন, সেই পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছিলেন। মা ভাল গান গাইতেন। যখন আমি পৃথিবীর আলোয় এসে নামলাম এবং বড় হতে থাকলাম তখন দেখলাম আমাদের বাসায় সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনা সংগীতের মধ্যে অন্যতম ছিল
‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
বাবা একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘ তোমার মনে যদি শক্তি না থাকে, তুমি সামনে এগিয়ে যাবে কি ভাবে? তাই প্রতিদিনের নিত্য কাজের সাথে এ গানকে অন্তরে স্থান দাও। দেখবে একদিন এ গান তোমার শোকে-দুঃখে তোমাকে সাহস দিবে। এটা কোন সাধারণ মানুষের মনের কথা না। তিনি ছিলেন ঋষিপুরুষ তাইতো এটা তাঁর দ্বারাই লেখা সম্ভব।’ তখন এগুলো বুঝতাম না, কখনও রাগ করে কিংবা বিরক্ত হয়ে বাবার ভয়ে জোরে জোরে সুরে-বেসুরে ত্রিসন্ধ্যায় গেয়েছি। আমাদের বাসায় প্রায় বিকেলবেলা গানের আসর বসত, শুধু রবিবার ছাড়া। এ আসরের মধ্যমণি ছিলেন আমার মিষ্টি পিসি (গায়ত্রী), তাঁর বান্ধবীরাও আসতেন মাঝে মাঝে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আভা পিসি, অপর্ণা পিসি (তিনি হচ্ছেন জামতলার দেবেন্দ্র মহাজনের মেয়ে)। আমার পিসি সহ এরা সবাই সরকারি চাকুরী করতেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। রবিবার দিন বন্ধ থাকায় সেদিন আমার দাদু হাফ ছেড়ে বাঁচতেন। বাবাতো যথারীতি চেম্বারে চলে যেতেন। দাদু চাইতেন তাঁর একমাত্র নাতনী গান করুক। কিন্তু মা সহ পিসিদের গান দাদু পছন্দ করতেন না। কি আর করা, আমি গান ভালবাসতাম, পিসি অফিস থেকে আসার সাথে সাথে শুরু হত আমার আবদার। মায়ের আত্মীয় স্বজনও কম জাননা। আসতেন মায়ের পিসতুতো বড় ভাই বুলু মিশ্র, মঞ্জু মিশ্র, উনারা খুব ভাল গান গাইতেন। আসতেন আরতি ধর (প্রখ্যাত লোকশিল্পী), বাবার ভাতিজা ছাতকের মিলন গোস্বামী ( প্রখ্যাত শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী, বর্তমান লন্ডনপ্রবাসী), আমার আরও এক কাকু জয়ন্ত(বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা) আমার ঠাকুমার বড়বোনের ছেলে। উনিও মাঝে মাঝে এসে আমাদের আসরে বসতেন। তখন আমি খুব ছোট। সঙ্গীত ছিল আমাদের বাসায় নিত্যদিনের একটা বিষয়। আরেকটা কথা না লিখলে নয়, মাঝে মাঝে আমার এক দাদু আসতেন নাতনীর গলায় গান শুনতে, তিনি আমার আরও একজন ভাললাগার মানুষÑ আমার দাদুর পিসতুতো ভাই (স্বর্গীয় অবনী কান্ত চৌধুরী) এইডেড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
তখন আমার একটা প্রিয় গান ছিল  পিসির কাছে শুনতাম ‘আমার সকল দুখের প্রদীপ’। তখন প্রায় দিনই একটা প্রশ্ন করতাম তাঁকেÑ দুঃখের আবার প্রদীপ হয় কি ভাবে? পিসি শিক্ষিত মানুষ ,যা বলতেন আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যেতো। রবীঠাকুরের গানের আমি ভীষণ ভক্ত ছিলাম সেই থেকেই। আমার মামারাও ভাল গান গাইতেন। বড় মামা পেশায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাধে সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতিও ছিল তার গভীর অনুরাগ। বড় মামার ছাত্রের মধ্যে আমার কয়েক জনের সাথে ভাল যোগাযোগ ছিল এর কারনে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডা: মৃগেন চৌধুরী ও সাহিত্যিক নন্দলাল শর্মা। এই সাহিত্যানুরাগী ব্যক্তিরাও আমাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। বিশেষ করে মামা যখন বাসায় আসতেন তাদের অনেক সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কিত কথা বা আলোচনা আমি আঁড়ালে আবডালে থেকে শুনতাম। তবে সেই বয়সে তার বেশীর ভাগই বুঝতাম না। সে যাই হউক। মনে আছে একবার বড় মামা একটা গান তুলে দিলেন হারমোনিয়ামে, ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে।’ আমার রাঙ্গা মামা তিনিও শিখিয়ে দিলেন ‘আজি ধানের ক্ষেতে রোদ্র ছায়ায় লুকোচুরির খেলারে ভাই’ এ গানটি। এভাবেই আমার শৈশব কেটেছে রবীঠাকুরের কথায়, সুরে, ভাবনায়। সেই থেকে কবি আমার আত্মার আত্মীয়। আমার নিত্যদিনের পথচলায় আমার অবলম্বন। আমার মায়ের সাথে কবিগুরুর কোথায় একটি যোগসূত্র খুঁজে পাই। সিলেটের চৌহাট্টার ‘সিংহবাড়ি’ টি আমার আরেকটা মামার বাড়ী, ‘সিংহবাড়ি’র মামারা ভীষণ ভালবাসতেন আমার মাকে। দিদিমাতো (স্বর্গীয় বীণাপানি মজুমদার) কোন উৎসব, পালা-পার্বণে মা না গেলে ফোন করে খোঁজ নিতেন। কত রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী, কবির প্রয়াণ দিবস ঘটা করে সিংহবাড়িতে উদযাপন হয়েছে তা আজ শুধু স্মৃতি। আমি কত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি, আবৃত্তি করেছি। অনুষ্ঠানের শেষে মামীদের হাতে তৈরী লুচি আলুরদমÑ ভাবলেই জিভে জল আসে।
এ বাড়ীর ছোট ছেলে (ডা: সুধাময় মজুমদার) আমার সুধা মামা, আমাদের বাসায় ভাতৃদ্বিতীয়াতে ভাইফোঁটা খেতে যেতেন। মা পরম যতেœ এটা সেটা বানাতেন ভাইয়ের জন্য। এই সিংহবাড়িতে রবিঠাকুর এসেছিলেন ১৯১৯ সালে। কাজেই রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিতে এ বাড়িটি এখনও ঐতিহ্য বহন করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ নতুনত্ব খোঁজে তাই এই দীর্ঘ বছরের পথচলার বাঁকে বাঁকে কবিকে আমি খুঁজে পাই নব নব রূপে। কবি সর্বযুগের সর্বকালের সকল মানুষের মনে বর্তমান। এভাবেই যুগে যুগে বিভিন্ন ধারার সাথে পাল্লা দিয়ে রবীন্দ্র ভাবনা হয়ে উঠেছে শাশ্বত। তাঁর গানের ব্যাপ্তি বিস্ময়কর, তাই সাধারণ ভাবে শিক্ষিত মানুষ তাদের জীবনের বিভিন্ন সময়ে রবীন্দ্রভাবনার সাথে একাত্ম হতে পারেন। ভাবতে পারেন এটা তাঁরই কথা। তাই আজও কবির কবিতা, গান এত বেশী জনপ্রিয়। কতবার যে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখতে গিয়ে মায়ের কাছে ধমক খেয়েছি। এখন মনে হলে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। ‘আজি তোমায় আবার’’ গান এর সঞ্চারী গাওয়া, মিড় বোঝাতে কি যে মায়ের প্রাণপন চেষ্টা। আজ বুঝি, এত আলোর মধ্যে থেকেও আমি কেন এতটুকু আলো ধার হিসেবে নিতে পারলাম না। এ আমার ব্যর্থতা। আসলে আমরা অনেক সুন্দর কিছুকে পেয়েও নিতে পারি না। কবি নিতে পেরেছিলেন ভাল বেসেছিলেন এ জগৎকে, এ জগতের কীটপতঙ্গ, পশুপাখি, মানব মানবীকে।  কবি চন্দ্র-সূর্যগ্রহ-তারার চাঁদোয়াতলে এ ভূবনে জন্ম লাভ করে ধন্য হয়েছিলেন। এ বিশ্বে তাঁর জায়গাটিকে চিনে নিয়েছিলেন তাই মুগ্ধ বিস্ময়ে জেগে উঠে তাঁর গানÑ ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা বিশ্ব ভরা প্রাণ’Ñ এ মাটির রূপ-রস-গন্ধ ঋদ্ধ করেছে কবিকে। তিনি অপার বিষ্ময়ে মনের ভাব প্রকাশ করেছেন এ গানের সঞ্চারীতে।
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে,
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
বিষ্ময়ে তাই জাগে আমার গান ॥
রবীন্দ্র সাহিত্যে বাদ পড়েছে কোন বিষয়? ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেহ নাহি দিবে অধিকার’ Ñ এ কবিতায় নারী স্বাধীনতা বা সম অধিকার ভাবনার বিষয়টি কিছুটা উচ্চকিত ভাবেই প্রকাশ যেন, তবু নিজের মনে একটু নাড়া দেয়, যখন দেখি স্বাধীকারের সব প্রশ্ন মিশে সেই ‘বরমাল্য লব একদিন’ এ। ‘কভূ তারে দিব না ভূলিতে মোর দীপ্ত কঠিনতায়?’
আরে বাবা! কোনও সহ গমন হয় নাকি তেমন করে! তার চেয়ে চিত্রাঙ্গদা অনেক স্বাভাবিকÑ ‘যদি পার্শ্বে রাখো মোরে সংকটের পথে, দুরূহ চিন্তার যদি অংশ দাও, যদি অনুমতি কর কঠিন ব্রতের তব সহায় হইতে, যদি সুখে-দুঃখে মোরে কর সহচরী, আমার পাইবে তবে পরিচয়।’ কবি নিজেতো জানতেন বিন¤্র ‘দীনতার শক্তি’, যে শক্তি ছিল কবি সৃষ্ট নিতান্ততুচ্ছ সেই আনন্দী বৈষ্ণবীর মতো আরো চরিত্রের মধ্যে। পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়াবার সময়ে দেশে বিদেশে মেয়েদের জীবনযাপনের যে বন্ধন ও মুক্তি, লাঞ্ছনা গঞ্জনা ও প্রতিরোধ ধরা দেয়নি কবির চোখে? মেয়েদের নিয়ে ভাবনায় নিজের  যে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছিলেন প্রায় বালিকা বয়সে, তাদের জীবন বিশেষত মাধুরীলতার শেষ দিনগুলির মর্যাদাবিহীন যন্ত্রণা, কেবল মৃত্যুতেই যার অবসান। শেষবারের মতো মৃতা মেয়ের মুখ খানি না দেখে ফিরে আসা, রেনুকার মৃত্যু, মীরাদেবীর বঞ্চিত জীবন। কবির হৃদয়কে কতটুকু নাড়া দিয়েছিল জানিনা। শমীর অকাল মৃত্যুতে বড় বেদনা ছিল, অপমান ছিল না, শুধু অসম্মান দুঃখ নয় অন্তঃপুর বাসিনীরও যে আকাশ দেখার ইচ্ছা থাকে তাও কবির চোখ এড়ায়নি। যদি চোখে না পড়ত তবে কি ভাবে উঠে আসত একজন  নারীর বোধের সুন্দর প্রকাশটি। কবির কথায়Ñ আমি নারী, আমি মহীয়সী, আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোৎ¯œাবীণায় নিদ্রাবিহীন শশী। আমি নইলে মিথ্যা হত সন্ধ্যাতারা ওঠা, মিথ্যা হতো কাননে ফুলফোঁটা।
কবির সমস্ত জীবন ও কাজের মধ্যে দেখতে পাই বিশ্ব মানবের আবির্ভাব, মানব কল্যাণের তাগিদ। তাই নিজের সন্তানের মঙ্গলচিন্তায় তৃপ্ত না থেকে বিশ্ব মানবের কল্যাণে বিশ্বের মানুষকে ডাক দিয়ে আনেন। এক পরম সত্য ঘোষনা করেন। ‘‘ মানুষের যা শ্রেষ্ঠ দান তা যে দেশে, যে কালেই সৃষ্ট হোক তাতে সকল মানুষের অধিকার’’। ‘‘যেখানেই যে তপস্বী করেছে দুষ্কর যজ্ঞযাগ, আমি তার লভিয়াছি ভাগ।’’ রবীঠাকুরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে কোথায় পড়েছিল শান বাঁধানো ঘাটে কলসি রাখার সেই গোলাকার দাগ, জানিনা তবে আমার শৈশবে এতো আলো পেয়েও এতটুকু আলো ধার হিসেবে নিতে না পারায় যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা এ শুন্য পাত্রে একটু একটু করে ভরে নিতে চাইÑ
‘ আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বালিয়ে।

লেখক: অভিনয় শিল্পী ও আবৃত্তিকার, প্রশিক্ষক- জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সিলেট এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, সিলেট জেলা শাখা।

সড়ক দূর্ঘটনায় লিটন আহমদের পাশে জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন

সিলেট জেলা অটোরিক্সা সি.এন.জি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট-৭০৭ এর অন্তর্ভূক্ত কদমতলী ইত্যাদি উপ-কমিটির সাধারণ সদস্য লিটন আহমদ সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে সিলেটের একটি স্থানীয় হসপিটালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। ৮ মে মঙ্গলবার সংগঠনের জেলা অফিস থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেন লিটন আহমদের পক্ষে ইত্যাদি উপ-কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ। সংগঠনের পক্ষে সিলেট জেলা অটোরিক্সা সি.এন.জি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট-৭০৭ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজাদ মিয়া এ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল আহমদ, অফিস সহকারী আছকর আলী ইত্যাদি উপ-কমিটির শ্রমিক নেতা মঈন উদ্দিন আহমদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Sunday, 6 May 2018

শ্রমিকদের দুঃসময়ে পাশে থাকবো ... সেলিম আহমদ ফলিক

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং- ১৪১৮ এর পক্ষ থেকে সিলেট জকিগঞ্জ বাস শ্রমিক উপ কমিটির সদস্য মরহুম সখত আলীর পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। রোববার দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ইউনিয়ন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দুঃসময়ে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সব সময় পাশে থাকবে। নানা সমস্যায় জর্জরিত পরিবহন শ্রমিকদের কষ্ট দূর্ভোগ লাঘবে আমরা সব সময়ই আন্তরিক। পরিবহন শ্রমিকদের মৃত্যুর পর তাদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক অনুদান প্রদান করে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে অনুদানের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। তাই সকল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে যেতে হবে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- ১৪১৮ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিমের সভাপতিত্বে ও কোষাধ্যক্ষ শামসুল হক মানিকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর কাজী শহীদুল আলম, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন রফিক।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জকিগঞ্জ বারিগ্রাম মিনিবাস উপ কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী, সহ সভাপতি বাদল মিয়া, সহ সম্পাদক ফজলাই, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ হারিছ আলী, সদস্য শামীম, সিলেট জকিগঞ্জ বাস শ্রমিক উপ কমিটির সম্পাদক আব্দুল মন্নান, সহ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রাজন সহ অন্যান্য শ্রমিক বৃন্দ।

নাজমুস সাকিব মেহেদির জিপিএ-৫ অর্জন



সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নাজমুস সাকিব মেহেদি। সে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুক মিয়া ও লিলিমা আক্তার লিলির ছেলে। নাজমুস সাকিব মেহেদী তার এই সাফল্যের জন্য মা-বাবা ও শিক্ষকবৃন্দের কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে লেখাপড়া করে সে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে চায়। নাজমুস সাকিব মেহেদি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

আনন্দে মাতোয়ারা সিলেট অগ্রগামীর শিক্ষার্থীরা


সারাদেশের সাথে সিলেট শিক্ষা বোর্ডেও প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফল। রোববার দুপুরে সিলেট অগ্রগামী সরকারি বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছাত্রীরা আনন্দে মাতোয়ারা। এবার এ স্কুলে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১৯ শিক্ষার্থী। যা গতবারের চেয়ে ১৭ জন কম। গতবার এ স্কুলে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৩৬ শিক্ষার্থী।

এছাড়া এ গ্রেড পেয়েছে ১৩৮ জন, এ মাইনাস গ্রেড ২৯ জন, বি গ্রেড ১১ জন, সি গ্রেড পেয়েছে ১ জন। স্কুলের ১ জন ছাত্রী ফেল করেছে।

এবারের পরীক্ষায় অগ্রগামী সরকারি বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ৩০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। স্কুলের পাশের হার ৯৯ দশমিক ৩৩ ভাগ ।

ফলাফল প্রকাশের পরে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা পাশের আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। বাদ্যবাজনা বাজিয়ে আর নেচে-গেয়ে তারা করেন উল্লাস।

উল্লেখ্য, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হাসের সূচক কিছুটা কমলেও এবার বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩ হাজার ১শ’ ৯১ জন শিক্ষার্থী। যা গতবারের তুলনায় ৫২৮ টি বেশি। গতবার জিপিএ-৫ পায় ২ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থী। বোর্ডে এবার মোট পাশের হার ৭০.৪২। এরমধ্যে ছাত্রদের পাশের হার ৭১ দশমিক ৩৩ ও ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৭১।

অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন টিলাগর শাখার সাধারণ সভা সম্পন্ন

সিলেট জেলা অটেরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট ৭০৭ এর আওতাধীন টিলাগড় উপ কমিটির সাধারণ সভা গতকাল শনিবার রাত ৮টায় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-কমিটির উপদেষ্টা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা অটেরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট ৭০৭ এর সভাপতি জাকারিয়া আহমদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ মিয়া, সহ সভাপতি মানিক খান, জিন্দাবাজার মুক্তিযোদ্ধা শাখার নেতা শামসুল হক শামছু, টিলাগড় উপপরিষদের সম্পাদক মো. সুজন মিয়া, সহ সম্পাদক মো. হারুন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলেক খান, সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, মো. উজ্জল মিয়া, সদস্য এম. এ কবির, সাবেক সম্পাদক মো. আউয়াল খান, এলাকার মুরব্বি লিটন মিয়া, সরো মিয়া প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, সকল শ্রমিক নেতাদের শ্রমিক বান্ধব হতে হবে। তাদের সুখ দুঃখ নিজের করে নিতে হবে। সাধারণ পরিবহণ শ্রমিকরা আজ নির্যাতিত। সকল শ্রেণিপেশার মানুষদের মধ্যে পরিবহণ শ্রমিকরা ঝুকি নিয়ে চলতে হব। তাই সবাই সাধারণ শ্রমিকদের সুখ দুঃখে এগিয়ে আসতে হবে। এই সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আজ আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে কোন ধরণের সমস্যায় আমাদের পরিবহণ শ্রমিকরা পড়ে গেলে সব শ্রমিকরা মিলে তাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সকলকে কাজ করতে হবে।
সাধারণ সভা শেষে নিয়মিত টিলাগড় উপকমিটির শ্রমিকদের মধ্যে থেকে শৃঙ্খলাভাবে গাড়ী চালানু ও নিয়মিত রিসিট বই কাটায় সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন, মো. আবুল কালাম, কাজল মিয়া ও সাদ্দাম হোসেন।

আন্তর্জাতিক মা
দিবস উদযাপন

তৃণমুল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি গ্রাসরুটস এর উদ্যোগে কিউরিক, স্টার ও মামুরডা হসপিটালের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মা দবিস উপলক্ষ্যে এক ব্যাপক কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মাঝে আগামী ৭ মে, ২১ মে নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পন্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় ১০ মে নারী সমাবেশ ১১মে বিনামুল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ১২মে কর্মীসভা এবং ১৩মে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। মা দিবসের সকল কর্মসূচী সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক মা দিবসের সকল কর্মসূচীতে সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তৃণমুল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি গ্রাসরুটস এর কেন্দ্রীয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তি।

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি :মো.মোজ্জাহের আলী নর্বিাহী সম্পাদক:মো মনিরুজ্জামান রনি নহোর র্মাকটে জন্দিাবাজার,সলিটে। ০১৭১২৪৫৪৮৮৫৫ crimenewssylhet@gmail.com